পারস্পরিক বিশ্বাসের মনোভাব নিয়ে উজ্জ্বলতার ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বিশ্ব ব্যাংককে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ-বিশ্ব ব্যাংক অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে সোমবার (১ মে) সকালে ওয়াশিংটনে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে একটি ছবি প্রদর্শনী উদ্বোধনের সময় এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আশা করি, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার রোমাঞ্চকর যাত্রায় বিশ্বব্যাংক আমাদের সঙ্গে থাকবে। আসুন পারস্পরিক বিশ্বাসের মনোভাব নিয়ে উজ্জ্বলতার ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে কাজ করি।

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিশনের জন্য বিশ্ব ব্যাংক এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ দেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান। এ সময় তিনি আরও বলেন, আমাদের অভিন্ন শত্রু হলো ক্ষুধা এবং দারিদ্র। এ দুটো জয় না করা পর্যন্ত আমাদের বিশ্রাম নেই।

 

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন,  কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ, যারা শ্রম দিয়ে দেশ গড়ে তাদের জন্য কাজ করাটাই আমাদের লক্ষ্য। কারণ তারাই আমাদের দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আজকের এই শ্রম দিবসে পহেলা মে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রমজীবী মানুষ সবাই, দুনিয়ার মজলুম এক হোক এবং সকলেই সুন্দরভাবে বাঁচুক এই কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ভূমিহীন, গৃহহীন একেবারে যাদের কিছুই নেই তাদের ঘর-বাড়ি করে দিচ্ছে। এমনকি যারা ট্রানজেন্ডার (হিজরা) তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। যারা ভাসমান ছিলো তাদের ঘর-বাড়ি করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো মানুষ ভূমিহীন থাকবে না, কোনো মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় কষ্ট পাবে না, কোনো শিশু স্কুলের বাইরে থাকবে না। প্রত্যাক মানুষ চিকিৎসা পাবে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের সঙ্গে যৌথভাবে ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে পরে এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি বিশ্বাস করেন এই ছবি প্রদর্শনী বিশ্ব ব্যাংক এবং বাংলাদেশ একসঙ্গে কি অর্জন করেছে এবং এখনো কি বাকি আছে তা মনে করিয়ে দেবে। সঠিক রাজনৈতিক পছন্দ বিষয়েও এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এটি দেখায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দুস্থ মানুষের মুখে হাসি দেখতে চেয়েছিলেন।

এর আগে ওয়াশিংটনে ডিসির বিশ্বব্যাংক সদরদপ্তরে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর সেখানে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়।